অতি কৌতূহলে প্রাণ গেল ওদের

প্রকাশঃ মার্চ ২৭, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

গত শনিবার সিলেটে জঙ্গি আস্তানার পাশে বোমা হামলায় পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়ে এম এ জি ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৪ জন। জঙ্গি আস্তানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান কৌতূহলের বশে দেখতে গিয়ে অনেকে আহত হয়েছেন। কৌতূহলই কাল হলো তাঁদের।

গত শনিবার সারা দিন অভিযানস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় সামলাতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়েছে। কিছুক্ষণ পরপর পুলিশ সদস্যরা ভিড় করতে থাকা জনতাকে লাঠিপেটা করে সরিয়ে দিচ্ছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার জড়ো হচ্ছিল জনতা। সন্ধ্যার পরে এ রকম ভিড়ের মধ্যই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

সেদিনের ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন সবজি বিক্রেতা হোসেইন আহমেদ। তাঁর বাঁ হাতের তিনটি আঙুল ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। দুই পায়ে একাধিক ক্ষত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় প্রথম বিস্ফোরণে আহত হয়েছিলেন এই সবজি বিক্রেতা। আজ সোমবার বিকেলে হাসপাতালে জানতে চাইলে হোসেইন আহমেদ প্রতিবেদককে বলেন, কৌতূহলের বশে অভিযান দেখতে গিয়ে তার এই পরিণতি।

বোমা হামলায় নিহত কলেজছাত্র দুজনের একজন মদনমোহন কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ওয়াহিদুল ইসলাম অপু। তাঁর বাসা সিলেট নগরের চাঁদনীঘাট এলাকায়। বাবা নেই। এক ভাই, দুই বোনের মধ্যে সবার বড় ওয়াহিদুল।

কলেজছাত্র জান্নাতুল ফাহিম (১৮) কুচাইয়ের ইসরাব আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। বাবা কামাল আহমদ কাবুল দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কুচাই ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক। ফাহিমও ছাত্রলীগের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কমিটির পরিবেশ ও বনবিষয়ক উপ-সম্পাদক ছিলেন।

এ দুজনও কৌতূহলের বসে অভিযান দেখতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। জান্নাতুল ফাহিমের বাবা কামাল আহমেদ কাবুল প্রতিবেদককে বলেন, শনিবার সকালে ৫০টি টাকা নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ফাহিম। এরপর বন্ধুদের সঙ্গে অভিযান দেখতে গিয়ে তাঁর এ দশা।

কামাল আহমেদ বলেন, ‘আমারেও লোকজন সাধছিল অভিযান দেখতে। আমি যাই নাই। কিন্তু গেলে হয়তো ছেলেটাকে দেখতে পারতাম, ফেরাতে পারতাম।’

ওয়াহিদুল ইসলাম অপুর মা সুলতানা আকতার লেভি প্রতিবেদককে বলেন, চাচাতো ভাই নুরুল আলম পাপ্পুর সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে অভিযান দেখতে গিয়েছিল অপু। বোমা বিস্ফোরণের পর হাসপাতালে নেওয়া হলে অপু মারা। পাপ্পু হাসপাতালে ভর্তি।

তাঁদের নীল রঙের মোটরসাইকেল জব্দ করেছে পুলিশ।

এদিকে ভাইয়ের মৃত্যুর পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অপুর ১২ বছরের ছোট বোন ফয়জুন নেছা তুলি। আরেক চাচাতো ভাই সোহাগ জানান, ভাইয়ের মৃত্যুর পর তুলি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে অপুর মা পাগলপ্রায়।

হাসপাতালে ভর্তি আহত রডমিস্ত্রি আল আমিন বলেন, তিনি স্থানীয় একটি মসজিদে নির্মাণকাজ করছিলেন। এ অভিযানের কারণে কাজ বন্ধ ছিল। তাই তিনি অভিযান দেখতে গিয়েছিলেন। অভিযান দেখতে গিয়ে তাঁর এ অবস্থা।

তবে আহত ব্যক্তিদের কেউ দেখেননি যে কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটল।

কমেন্টস